
আমি বারবার নিজেকেই প্রশ্ন করি—আমি কি সত্যিই অপদার্থ,
নাকি আমি সেই মানুষ, যার সব চেষ্টা গিয়ে ঠেকে ভাঙা দেয়ালে?
যে কাজেই হাত দিই, মনে হয় সেই কাজটাই আমার অযোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য অপেক্ষা করছিল।
সফলতা যেন অন্যদের জন্য বানানো কোনো ভাষা—
আমি শুধু তার ব্যর্থ উচ্চারণটা জানি।
নিজের জীবন চালাতে পারি না,
পরিবারের ভেতর থেকেও একা হয়ে থাকি,
পড়াশোনায় ভালো হতে পারিনি—
এই সবকিছুর জন্য আমার আফসোস নেই,
আফসোস শুধু এই জন্য যে আমি বারবার চেষ্টা করেও
নিজেকে প্রমাণ করতে পারিনি একজন “পারতে-পারা” মানুষ হিসেবে।
অনেকে তো কত কিছু করে,
শেষে গিয়ে শূন্য হাতে, মুখে লজ্জা নিয়ে
দূরের কোনো কোণে গিয়ে শুধু পেট চালায়।
তারা কষ্ট লুকিয়ে রাখতে পারে—
আমি পারি না।
এই না-পারাটাই কি আমার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা?
আমার ভেতরে একটা পাহাড় আছে।
সে পাহাড় চুপচাপ বড় হয়, প্রতিদিন।
আমি তাকে কাটতে চাই,
কিন্তু হাত পৌঁছায় না।
যত কাটতে যাই,
সে তত বেশি জায়গা করে নেয় আমার ভেতরে।
হয়তো আমি সেই মানুষ,
যে জিততে জানে না,
কিন্তু হেরে যাওয়ার সব অনুভূতি খুব ভালো করে জানে।
আর সেই জানাটাই আমাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়—
আমি কি অপদার্থ,
নাকি আমি শুধু ক্লান্ত, ভেতরে ভেতরে ক্ষয়ে যাওয়া একজন মানুষ?






