বই রিভিউ: কৃষণ চন্দর এর লেখা আমি গাধা বলছি


বই রিভিউ: কৃষণ চন্দর এর লেখা আমি গাধা বলছি

“ক্ষুধা নিবৃত্তি হলো বড়লোকদের বিলাস আর গরীবদের জীবন বাঁচানোর প্রয়াস”

আমি কথা বলতে যাচ্ছি কৃষণ চন্দরের লেখা “আমি গাধা বলছি” বইটি নিয়ে। এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস। বইটি হাস্যরসের আড়ালে গভীর সামাজিক বার্তা প্রকাশ করেছে, যা আমাকে সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে বারংবার ভাবতে বাধ্য করেছে।

এই গল্পে একজন গাধা নিজেই নিজের গল্প বলে। গাধার চোখ দিয়ে মানুষের সমাজ, রাজনীতি, ভণ্ডামি, ক্ষমতার লড়াই—সবকিছু দেখানো হয়েছে। লেখক গাধাকে ব্যবহার করেছেন একটি প্রতীক হিসেবে, যেখানে গাধা অনেক সময় মানুষের চেয়েও বেশি সৎ, পরিশ্রমী ও নির্দোষ হিসেবে উঠে আসে। সমাজের অসঙ্গতি ও মানুষের স্বার্থপরতা ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।

“এক জিনিসে অন্য জিনিস না মিশালে কোনদিনই সেটা ব্যবসা হয় না। উদাহরণস্বরূপ, দুধে পানি, সাহিত্যে নগ্নতা, আটাতে ভুসি, রাজনীতিতে ধর্ম এবং চাকরিতে ঘুষ ইত্যাদি। ব্যবসা-নীতির পয়লা সবক এটিই।” অর্থাৎ মানব সমাজে খ্যাতি অর্জনের জন্য এসব সংমিশ্রণ ছাড়া কিছুরই পূর্ণতা পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

বইটিতে সমাজের ভণ্ডামি ও শ্রেণিবৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। মানুষের চেয়ে “গাধা” কখনও কখনও বেশি মানবিক—এই বৈপরীত্য বইটিকে অনন্য করে তুলেছে।

গল্পটি পুরোপুরি বাস্তবধর্মী না হয়ে বরং প্রতীক ও ব্যঙ্গপ্রধান হওয়ায় এর গভীর সামাজিক ইঙ্গিত বুঝতে মনোযোগ দিতে হয়, তাই অনেকের কাছে বইটি ভালো নাও লাগতে পারে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন। আপনার ভালো লাগতে পারে।