
হয়তো তুমি অন্ধকারে রেখো না আমার নামের শেষ অক্ষর—
মোমবাতির গলে যাওয়া ছায়ার মতো, টেবিলে ছড়িয়ে থাকা।
তবু লিখছো ভোরের আগে একটি লাল দাগ,
আমাদের অনন্ত প্রলাপের মাঝখানে, কাঁচের গ্লাসে রেখে।
হয়তো আমি ছুঁই না তোমার চুলের গন্ধ,
তবু জানালার পাশে বসে বাতাস মাপছি—
কতটা হিম জমেছে আজ, কতটা নিঃশ্বাস থমকে।
শব্দগুলো টেনে আনছো সিগারেটের ধোঁয়ার ভেতর থেকে,
ভুলে যাচ্ছো—চেয়ারের হাতল আমার কব্জির মতো উষ্ণ ছিল।
হয়তো ডুবতে থাকা নদীর দিকে তাকালে মনে হয়,
আমি আছি স্রোতের তলায়,
হয়তো নেইও।
কিন্তু আলো নিভিও না, কাগজে ছিঁড়ে যেও না।
বরং রাখো রাতকে—
আধা জাগা, আধা নিদ্রার মতো,
নীরবতার ছায়ায় ভেসে চলুক।
মাটির গন্ধ মিশে, বাতাসে সিঁথি ছড়ায়,
প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন ভেঙে না যায়,
প্রতিটি চুপচাপ মুহূর্ত যেন ছিঁড়ে না যায়।
আমরা আছি, আছি না—
শব্দ অজানা, স্পর্শ অচেনা,
প্রেম ভেসে আসে আলো-ছায়ার খেলায়।
মোমবাতির শেষে লাল দাগ জেগে থাকে,
নীরবতা আমাদের সঙ্গে হেসে চলে।
স্রোতের তলায়, জানালার পাশে,
ভেতরের ছায়া আমাদের অন্তঃস্রোত।
এ রাতে প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি ছায়ার ঘূর্ণি
আমাদের হৃদয়কে ছুঁয়ে চলে—
শব্দহীন, গহীনে,
নীরবতার ঘূর্ণিতে।
শুধু আমরা,
শুধু এই আধা জাগা রাতের আভা,
যেখানে সময়ও নিঃশব্দে বয়ে যায়।






