Share

ধৈর্য্যশীল মানুষেরাও ক্লান্ত হয় | হালিমা আক্তার মেঘলা

একটা নির্দিষ্ট সময় পর খুব ধৈর্য্যশীল মানুষ টাও ক্লান্ত হয়, প্রচন্ড ক্লান্ত। তখন তার ক্লান্ত মনের একমাত্র প্রত্যাশা থাকে, পৃৃথিবীটা কিছু সময়ের জন্য থেমে যাক। এই পৃৃথিবীর মানুষগুলোর মধ্যে পরিবর্তন হওয়ার যে ধারা সেটা থেমে যাক। কিছুটা সময় অন্তত মুখোশ এর আড়ালের মুখটা নিয়ে বাঁচা যাবে, অন্তত এই যে সবসময় হাসা, সবার সামনে নিজেকে পৃৃথিবীর সবচেয়ে ধৈর্য্যশীল, Strong মানুষ হিসেবে প্রদর্শনের চেষ্টা সেটা থামিয়ে রাখা যাবে। কিছুক্ষণ খুব জোড়ে, চিৎকার করে কান্না করা যাবে।

খুব ধৈর্য্যশীল মানুষেরাও ক্লান্ত হয়, এদের মস্তিষ্ক আপনি কেটে,ছিড়ে দেখুন!! দুশ্চিন্তার বেড়াজালে বানানো কঠিন গোলকধাঁধা। এই গোলকধাঁধায় এরা প্রতিদিন ঘুরপাক খায়, খেতে খেতে অতলে ডুবে। আশ্চর্যের বিষয় এই অতলে ডুবে থাকা টা একমাত্র তার ভেতরের আত্মা ব্যতিত কেও জানে না! সে শুধু চায় বারংবার অন্যের উঠে দাঁড়ানোর ঢাল হওয়াটা বাদ দিয়ে একটাবার কেও তার ঢাল হোক।

টুইস্ট টা ঘটে ঠিক এই জায়গায়, প্রতিটা মানুষ তার এই প্রত্যাশায় জল ঢেলে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। ভুলে যায় ওদের এগিয়ে যাওয়ার পথে আলো জ্বেলে দেয়া মানুষটিকে। অতঃপর, নিজের ঢাল নিজেকেই হতে হয়, অন্ধকার পথ পেরোবার মশাল টা নিজেকেই জ্বালাতে হয়।

প্রচন্ড ধৈর্য্যশীল মানুষেরাও ক্লান্ত হয়, চায় একমুঠো যত্ন, একরাশ ভালোবাসা, আদুরে ছোঁয়া, ভরসার কাধ, বিশ্বাসযোগ্য হাত। তবে এই মানুষ গুলো এতই অভাগা যে, এসব তাদের ধরাছোঁয়ার বাহিরের জিনিস।

তবুও ওরা চায়, চায় পৃৃথিবী থামুক, মানুষ হোক অপরিবর্তনশীল। চায় মানুষ গুলো মানুষ হয়ে থাকুক!