আজ রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৭ তম জন্মদিন।


আজ রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৭ তম জন্মদিন।

“আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে”

যিনি কথা দিয়েছিলেন শালিক বা শঙ্খচিল হয়ে এই বাংলার বুকে আবার ফিরে আসবেন আজ সেই রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৭ তম জন্মদিন। আজকের এই দিনে অর্থাৎ ১৭ ই ফেব্রুয়ারী ১৮৯৯ সালে বরিশাল শহরে তখনকার ব্রিটিশ ভারতের একটি সাহিত্য সচেতন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক, সমাজকর্মী ও সম্পাদক, আর তার মা কুসুমকুমারী দাশ তিনিও কবিতা লিখতেন তার রচিত “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।” কবিতাটি এখনো আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালায়ের পাঠ্যবইয়ে পড়ানো হয়৷ এই সাহিত্যিক পরিবেশে বেড়ে উঠায় ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য ও প্রকৃতির প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ তৈরি হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশশতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি,লেখক ও প্রাবন্ধিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর সবচেয়ে প্রভাবশালী কবি হিসাবে ধরা হয় জীবনানন্দ দাশ। তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯১৯ সালে, কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি খুব বেশি খ্যাতি বা জনপ্রিয়তা পাননি, মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন।

“বনলতা সেন’ কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা কবিতায় এক অনন্য নারীচরিত্র উপহার দেন৷ প্রত্যেক মানুষ তার জীবনে এরকম একজন বনলতা সেন এর খোঁজ করেন। রূপসী বাংলা’ কাব্যে তিনি বাংলার প্রকৃতিকে এক অনন্য আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন৷ এই কারণেই তিনি “রূপসী বাংলার কবি” হিসাবে পরিচিত।

জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৫ সালে ভারত সরকারের সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এর আগে, ১৯৫২ সালে নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলন পরিবর্ধিত সিগনেট সংস্করণ “বনলতা সেন” কাব্যগ্রন্থটি বাংলা ১৩৫৯-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বিবেচনায় পুরস্কৃত করা হয়। বাঙলা সাহিত্যের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র ১৪ অক্টোবর ১৯৫৪-এ কলকাতায় একটি ট্রাম দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মারা যান।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন। আপনার ভালো লাগতে পারে।