খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন এর প্রয়ান দিবস আজ


খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন এর প্রয়ান দিবস আজ

ঐ দেখা যায় তালগাছ
ঐ আমাদের গাঁ,
ঐ খানেতে বাস করে
কানা বগীর ছা

আজ ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, যে দিন আমরা হারিয়েছিলাম ৫০ ও ৬০ দশকের এক অমূল্য রত্ন কে। বলছি, আল-হামরা লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা (যা বর্তমানে আল-হামরা প্রকাশনী নামে পরিচিত) খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন এর কথা। যার লিখা পড়ে কাজী নজরুল ইসলাম এর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুগ্ধ হতে বাধ্য হয়েছিলেন। চলুন জেনে আসি এই বিখ্যাত কবির জীবনের গল্প।

খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ছিলেন একজন বাংলাদেশি সাহিত্যিক। তিনি ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে শিশুতোষ সাহিত্য রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। যুগস্রষ্টা নজরুল নামক জীবনীর জন্য তিনি বহুলভাবে সমাদৃত। এ বই পাঠোত্তর কাজী নজরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ ছেলে কাজী সব্যসাচী ইসলাম মন্তব্য করেন:

“আপনার ‘যুগস্রষ্টা নজরুল’ পড়ে যে কি আনন্দ পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করবার নয়। এখানেও দু’একটি বই প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু আপনার মত হৃদয়গ্রাহী ও authentic (বিশ্বাসপ্রদ) লেখা হয় নি।”

সাহিত্যিক ব্যতিতও তাঁর আরও পরিচয় রয়েছে, তিনি কোলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন, “মুসলিম জগৎ” পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

“বিদ্রোহ” শিরোনামের একটি সম্পাদকীয় প্রকাশের জন্য তাকে হুগলি কারাগারে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল । কারাগারে থাকাকালীন তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথে দেখা করেন ।

তাঁর কিছু সাহিত্যকর্ম এর মধ্যে,
উপন্যাসঃ “নয়া সড়ক”, “অনাথিনী” ; শিশু সাহিত্যঃ “মুসলিম বীরাঙ্গনা”, “আমাদের নবী”, “ড. শফিকের মোটর বোট” ; কাব্যগ্রন্থঃ “পালের নাও”, “হে মানুষ”, “আর্তনাদ” ; ছোটগল্পঃ “ঝুমকোলতা” ; জীবনীঃ “যুগস্রষ্টা নজরুল” উল্লেখযোগ্য।

মঈনুদ্দীন ১৯৬০ সালে শিশু সাহিত্যে “বাংলা একাডেমী পুরস্কার” লাভ করেন। যুগস্রষ্টা নজরুল বইটির জন্য তিনি ১৯৬০ সালে “ইউনেস্কো পুরস্কার” লাভ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭৮ সালে তিনি সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য “একুশে পদক” লাভ করেন।

১৯৮১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। যার জন্য আমরা শৈশবে পেয়েছিলাম মজার ছড়া, যে ছড়া আজো শিশুরা পাঠ্যবই এ আনন্দ ও উৎসাহ নিয়ে পড়ে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন। আপনার ভালো লাগতে পারে।