ভিন্ন সালের একই দিনে জন্মগ্রহণ


ভিন্ন সালের একই দিনে জন্মগ্রহণ

তারিখ টা ১২ ফেব্রুয়ারি হলেও, সাল দুটো ভিন্ন। ১৯৩৬ এবং ১৯৪৩, পার্থক্য ০৭ বছরের। এই ভিন্ন ভিন্ন সালের একই তারিখে সাহিত্য জগৎ পেয়েছিল দুজন প্রতিভাবান লেখক, শওকত আলী এবং আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কে। চলুন তাদের সম্পর্কে জানা যাক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

শওকত আলীঃ

শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর জেলার থানা শহর রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। একজন বাঙালি কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক। তিনি বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে গল্প ও উপন্যাস লিখে খ্যাতি অর্জন করেন।ভিন্নধর্মী লেখার জন্য তাঁর পাঠক সমাজও ভিন্নরকম ছিল।

নবম শ্রেণীতে পড়াবস্থায় লেখালেখি শুরু করলেও ভারত ভাগের পর কলকাতার বামপন্থীদের ‘নতুন সাহিত্য’ নামে একটি পত্রিকায় প্রথম তার গল্প প্রকাশিত হয়। এরপর দৈনিক মিল্লাত, মাসিক সমকাল, ইত্তেফাকে তার অনেক গল্প, কবিতা এবং শিশুদের জন্য লেখা প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু সাহিত্যকর্ম

উপন্যাসঃ “পিঙ্গল আকাশ”, “যাত্রা”, “প্রদোষে প্রাকৃতজন”, “অপেক্ষা”, “দক্ষিণায়নের দিন” ইত্যাদি।

গল্পঃ “উন্মুল বাসনা”, “লেলিহান সাধ”, “শুন হে লখিন্দর”, “বাবা আপনে যান” ইত্যাদি।

১৯৯০ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। তার দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত এবং পূর্বরাত্রি পূর্বদিন যেগুলোকে ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়, যার জন্য তিনি ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসঃ

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১২ ফেব্রুয়ারি,১৯৪৩ সালে গাইবান্ধায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশী ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, এবং অধ্যাপক। তিনি একজন স্বল্পপ্রজ লেখক ছিলেন। বাস্তবতার নিপুণ চিত্রণ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক জ্ঞান, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সূক্ষ্ম কৌতুকবোধ তার রচনাকে দিয়েছে ব্যতিক্রমী সুষমা। 

বিদ্যলয়ে পড়ার সময়ে ইলিয়াসের লেখালিখেতে হাতেখড়ি ঘটে। ১৯৫২ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত সত্যযুগ পত্রিকার সাহিত্যপাতায় তার কবিতা ছাপা হয়। যদিও ১৯৬০-এর দশকে তিনি লেখালেখিতে পুরোপুরি সক্রিয় হন। সাহিত্যে তার হাতেখড়ি ঘটেছিল কবিতার মধ্য দিয়ে। এছাড়াও তিনি ছোটগল্প, উপন্যাস রচনা করেছেন।

তার কিছু উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম

উপন্যাসঃ চিলেকোঠার সেপাই, খোয়াবনামা।
ছোটগল্পঃ অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দুধভাতে উৎপাত, দোজখের ওম ইত্যাদি।
প্রবন্ধঃ সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু।
অপ্রকাশিত লেখাঃ করতোয়া মাহাত্ম্য

প্রকাশিত, অপ্রকাশিত, অগ্রন্থিত মিলিয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সর্বমোট ৩১টি গল্প রয়েছে। তাঁর ৫টি গল্পসংকলনে ২৩টি গল্প প্রকাশিত হয়েছে, বাকিগুলো তাঁর মৃত্যুপরবর্তী অপ্রকাশিত-অগ্রন্থিত সংকলনসমূহে প্রকাশিত হয়েছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জীবদ্দশায় ও মরণোত্তর বহু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), আনন্দ পুরস্কার (১৯৯৬), সাদাত আলী আখন্দ পুরস্কার (১৯৯৬), এবং মরণোত্তর একুশে পদক (১৯৯৯) ইত্যাদি।

তাঁর ‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬) উপন্যাসের জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন এবং অধিকাংশ পুরস্কারই তাঁর জীবদ্দশার শেষের দিকে আসে।

আজ এই দুই নক্ষত্রের জন্মদিনে আমরা তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। তাদের আলোকেই আলোকিত আমাদের সাহিত্য জগত।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন। আপনার ভালো লাগতে পারে।